বাংলাস্ফিয়ারঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের আওতায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান চালানোর পর ২৭ অক্টোবর কর্নাটকের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে তালিকাটি আপলোড করা হবে।

কোনও যোগ্য ভোটার যাতে বাদ না পড়েন এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তির নাম যাতে তালিকায় না থাকে—এই ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল এই প্রক্রিয়া। কিন্তু এর ফলে রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। প্রক্রিয়া শুরুর সময় কর্নাটকে ভোটার ছিলেন ৫ কোটি ৫৪ লক্ষ। খসড়া তালিকায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ কোটি ৫৪ লক্ষে। অর্থাৎ, প্রায় এক কোটি নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে কত জন অযোগ্য ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, কিংবা কত জন বিদেশি নাগরিকের নাম পাওয়া গিয়েছে—এসআইআরের আর একটি ঘোষিত লক্ষ্য ছিল সেটিও—সেই তথ্য এখনও জানা যায়নি।

খসড়া তালিকা তৈরির পর্যায়ে মৃত ভোটার হিসেবে ১৬ লক্ষ ৩৯ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়। সাত লক্ষেরও বেশি নাম চিহ্নিত করা হয় একাধিকবার নথিভুক্ত হওয়া নাম হিসেবে। আরও ৩ লক্ষ ৮৩ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয় ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে। এসআইআর হয়েছে এমন আরও অনেক রাজ্যে এই শ্রেণিটি দেখা যায়নি। প্রক্রিয়া শেষ হতে চললেও ‘অন্যান্য’ বলতে ঠিক কাদের বোঝানো হচ্ছে, তা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর স্পষ্ট করেনি। শুধু জানিয়েছে, যাঁরা স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছেন, তাঁদেরও এই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে বাসস্থান বদল করেছেন অথবা বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের সময় নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাওয়া যায়নি—এমন ভোটারদের। এই সংখ্যাটি ৮০ লক্ষ ৬২ হাজার। মৃত ভোটার কিংবা একাধিকবার নথিভুক্ত নামের ক্ষেত্রে যে যুক্তি প্রযোজ্য, এঁদের ক্ষেত্রে তা নয়। বাসস্থান বদলানো বা ঠিকানায় পাওয়া না যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁরা ভোটদানের অযোগ্য। তালিকায় নাম ফেরাতে তাঁদের ফর্ম ৬ জমা দিয়ে আবেদন করতে হতো। অথচ নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৭ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৩৪টি। এর মধ্যে নতুন ভোটারদের আবেদনও রয়েছে।

রাজ্যের কোনও বিধানসভা কেন্দ্রেই এসআইআরে যত নাম বাদ পড়েছে, নতুন নাম সংযোজনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ হয়নি। খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের তুলনায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জমা পড়েছে অনেক কম।